মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ, ২০১২

চিরদিন কে বাঁচতে চায়?

বিজ্ঞানী অব্রে ডি গ্রে'র পূর্বানুমান সত্য হলে, ১৫০তম জন্মদিন দেখার সৌভাগ্য যার হবে তার জন্ম ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে। আর ১ হাজার বছর বাঁচার প্রথম রেকর্ড যে গড়বে তার বয়স হতে পারে ২০ বছরের কম।

অব্রে ডি গ্রে একজন বায়োমেডিক্যাল জেরোন্টোলজিস্ট। মানুষের আয়ু নিয়ে গবেষণায় নিবেদিতপ্রাণ 'সেনস ফাউন্ডেশন' এর প্রধান বিজ্ঞানী তিনি।

গ্রে'র বিশ্বাস, বয়স বাড়ানো ঠেকাতে চিকিৎসকরা তার জীবদ্দশায়ই প্রয়োজনীয় সব রকমের উপায় পেয়ে যাবে।

বার্ধ্যক্যের সঙ্গে সঙ্গে যে রোগবালাইগুলো দেখা দেয় সেগুলো থেকে পুরোপুরি মুক্তির উপায় এবং যতদিন ইচ্ছা বাঁচার পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।

বিট্রেনের 'রয়েল ইন্সটিটিউশন একাডেমি অব সয়েন্স' এ একটি বক্তৃতা দেওয়ার আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আগামী ২৫ বছর বা এ সময়কালের মধ্যেই মানুষের বয়স চূড়ান্তভাবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার সম্ভাবনা শতকরা ৫০/৫০ ভাগ।"

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে গ্রে বলেন, আজকাল অনেক সংক্রামক রোগ যেভাবে চিকিৎসা করে সারানো সম্ভব হচ্ছে, মানুষের বার্ধক্যও এভাবে চিকিৎসার মধ্য দিয়ে এড়ানো সম্ভব হবে।

বর্তমানে অনেক মানুষই নিয়মিত চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে যায়।

ভবিষ্যতে এ চিকিৎসার আরো প্রসার ঘটে জিন থেরাপি, স্টেম সেল থেরাপি, ইমিউন স্টিমুলেশনসহ আরো নানা ধরনের অত্যাধুনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে যাতে করে দেহসৌষ্ঠব ধরে রাখা যাবে।

ডি গ্রে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক 'সেনস ফাউন্ডেশন' এর প্রধান এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ২০০৯ সালে যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন।

বার্ধক্য সম্পর্কে তিনি বলেন, জীবনভর সারা দেহে বিভিন্ন ধরণের কোষ ও আণবিক ক্ষয়-ক্ষতির কারণে মানুষ বুড়িয়ে যেতে থাকে।

এই ক্ষয়ক্ষতিগুলো মারাত্মক পর্যায়ে চলে যাওয়ার আগেই তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। আর তা থেকেই পূরণ হতে পারে বেশিদিন বাঁচার আশা।

তার মতে, "দেহে কোষের ক্ষয়সহ অন্যান্য ক্ষয়-ক্ষতি নির্দিষ্ট সময় পরপর সারানো যেতে পারে যাতে তা এমন পর্যায়ে না পৌঁছায় যা রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর এভাবেই বাড়তে পারে মানুষের আয়ু।"

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন